লগইন

Color

Indigo
Red
Green
Teal
Blue
Purple
Rose

Mode

Light
EN
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

অটোফ্যাগি কি?

Shikkha Web Bot·১৭ জুলাই, ২০২৬· ৭৩,২৬০ বার দেখা হয়েছে· ▲ ৩৮ ভোট· ২টি উত্তর

২টি উত্তর

১৭ জুলাই, ২০২৬· ▲ ভোটসেরা উত্তর

মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকা কি ভালো? আমরা জানি, সুস্থ্য থাকার জন্য শরীরের প্রয়োজনীয় উপদানগুলো সবসময় গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে বিজ্ঞান বলছে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকাও ভালো। এতে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা নিজে থেকে সমাধান হয়ে যায়; এমনকি ক্যান্সারের মত প্রাণঘাতী রোগ থেকেও রক্ষা পায় মানব দেহ। কিভাবে হয় ব্যপারটা বুঝতে হলে আপনাকে জানতে হবে অটোফ্যাগি (Autophagy) বা স্ব-ভক্ষণ নামের প্রক্রিয়াটি। অটোফ্যাগি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'অটো' এবং 'ফ্যাগি' থেকে। প্রথমটির অর্থ নিজে এবং দ্বিতীয়টির অর্থ খাওয়া।

অটোফ্যাগি এক দৈহিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোষগুলো তার বর্জ্যকে ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে থাকে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতপ্রায় কোষ থেকে দেহকে পরিত্রাণ পেতে সহায়তা করে। সহজ ভাষায়, শরীরে খাদ্যে বা পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে অথবা বিরুপ পরিবেশে টিকে থাকতে শরীরের কোষগুলো তাদের বর্জ্যকে ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে এবং সাথে মৃতপ্রায় ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলে সেখানে নতুন কোষের গঠন করে। অটোফ্যাগি প্রক্রিয়াটি ঘটে মাঝে মাঝে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকলে। যেমনটা রোজার সময় ঘটে থাকে। তখন পুষ্টির অভাবে কোষ নিজের মধ্যকার বর্জ্য ব্যবহার করে। ফলে কোষের ভেতরটা পরিষ্কার হয়ে যায়। আবার মৃতপ্রায় কোষগুলোকে মেরে ফেলে সেখানে নয়া কোষের গঠন সম্পন্ন হয়। এভাবে দেহের কোষগুলো নবজীবন লাভ করে।

Autophagy প্রতিনিয়ত মানবদেহে ক্রিয়াহীন কোষগুলো ধ্বংসের মধ্যেদিয়ে নতুন কোষের সৃষ্টি হয়। ১৯৬০ সালে এই বিষয়টি প্রথম বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। তখন বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, কোষ কিভাবে আবর্জনা বা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানকে নিজের ভিতর ঝিল্লি তৈরি করে আটকে ফেলে এবং লাইসোসোম ( Lysosome) নামক রিসাইক্লিং চেম্বারে তা সরিয়ে নেয়। কিন্তু মূল রহস্য ছিল কিভাবে এই অঙ্গাণু প্রোটিন ও অন্যন্য বস্তুকে ভেঙ্গে পুনরায় শক্তি উৎপাদন করে। আর এই কাজটিই দেখান ইয়োশিনোরি ওহশুমি (Yoshinori Ohsumi)। জাপানের বিজ্ঞানী ওহশুমি প্রথমবারের মতো কিভাবে কোষের ভিতর এই প্রক্রিয়া চলে তা আবিষ্কার করেন। নব্বইয়ের দশকে বেকারিতে তিনি ঈস্ট নিয়ে গবেষনা করে সেই জিনটি শনাক্ত করেন যা অটোফ্যাগির পিছনে মূল ভূমিকা পালন করে। যদিও তিনি ঈস্ট কোষে অটোফ্যাগি জীন আবিষ্কার করেন, কিন্তু উন্নত মানবদেহেও এটা একই পদ্ধতিতে কাজ করে। শুধু মানুষ না, উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গেও এই প্রক্রিয়া কাজ করে। এই আবিষ্কার ২০১৬ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে তাকে নোবেল পুরষ্কার এনে দেয়। তিনি বর্তমানে টোকিও ইন্সটিউট অভ টেকনোলোজিতে প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছে।

প্রোটিন ক্ষয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষের স্থলে নতুন কোষ গঠনের মাধ্যমে অটোফ্যাগি প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। এটা দেহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কোষ যখন মৃতপ্রায় অবস্থায় চলে যায় তখন অটোফ্যাগি প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত হয় এবং এর পরিসর বাড়ে। এ প্রক্রিয়ায় কোষ তার মধ্যে থেকে যাওয়া বর্জ্য ব্যবহার করে মেরামত প্রক্রিয়া পরিচালনার শক্তি উৎপাদন করে। এক্ষেত্রে কোষের এই উপাদানের পচন ও পুনঃব্যবহারের বিষয়টি অনেকটা কোষের নিজেকে নিজে খেয়ে ফেলার মতো। আপাতদৃষ্টিতে, এটা অস্বাভাবিক মনে হলেও, এটি জীব দেহের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা পদ্ধতিও যার মাধ্যমে শরীর ক্ষুধা, ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাস মোকাবেলার মতো কাজগুলো করে থাকে। অটোফ্যাগির নানা সমস্যার কারনেই ডায়াবেটিস ( Diabetes), পার্কিনসন্স (Parkinsons) জাতীয় রোগের সৃষ্টি হয় শরীরে। এমনকি এই প্রক্রিয়া এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটা অর্কাযকর হয়ে গেলেই তা স্মৃতিভ্রংশের মতো বার্ধক্য জনিত রোগের কারন হতে পারে বলে ধারনা করা হয়।

অটোফ্যাগি এবং কোষের মৃত্যু :

বিশেষ অবস্থায় অটোফ্যাগির মাধ্যমে কোষগুলোকে মেরেও ফেলা হয়। একে প্রোগ্রামড সেল ডেথ বা পিসিডি বলে। কোষের মৃত্যুকে বলে অটোফ্যাগিক সেল ডেথ। যে টার্গেটকৃত কোষগুলোকে মারা হয় তাদের বলা হয় অ্যাপোপটোসিস।

আসলে কোষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নতুন কোষের প্রয়োজন হয়। কাজেই কোষের বিয়োগের সাথে নতুন কোষ গঠনের কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। অটোফ্যাগি এই দুই কাজের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করে। একদিকে যেমন অপ্রোয়জনীয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষের ধ্বংস ঘটে, তেমনই নয়া কোষ গঠনের কাজও চলতে থাকে।

অটোফ্যাগি এবং স্ট্রেস :

পুষ্টির অভাবঘটিত কারণ কিংবা বাইরের বিরূপ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট পরিবেশে টিকে থাকতে কোষগুলোকে সহায়তা করে অটোফ্যাগি।

অটোফ্যাগি প্রক্রিয়া বেশি হয় জীবের প্রতিকূল অবস্থায়। যেমন দীর্ঘ সময় খাদ্য বিরতি থাকলে। এমন সময় কোষ পুষ্টির অভাবে তার অভ্যন্তরীন বর্জ্য পদার্থ বা রোগ সৃষ্টিতে সক্ষম এমন সব ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে। আবার ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতপ্রায় কোষগুলোকে মেরে ফেলে নতুন কোষের গঠন সম্পন্ন করে। এভাবে কোষগুলো নবজীবন লাভ করে। এই প্রক্রিয়া সেই সব কোষেই শুরু হয় যেখানে সেলুলার স্ট্রেস শুরু হয়। সেলুলার স্ট্রেস বলতে এমন এক অবস্থাকে বুঝায় যখন পুষ্টির অভাবে কোষের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং প্রাণশক্তি ফুরিয়ে যেতে শুরু করে। একদিকে কোষের ধ্বংস হয় অন্যদিকে নতুন কোষের গঠন শুরু হয়। এক্ষেত্রে অটোফ্যাগি এইদুটির মধ্যেই ভারসাম্য রক্ষা করে চলে।

পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া জীবে দেহকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি অল্পবয়সে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। আর সবচেয়ে বেশি অটোফ্যাগি হয় উপোস থাকা অবস্থায়। মানে আপনি যখন টানা দীর্ঘ সময় (সাধারণত দিনের একটা বড় অংশ) খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকেন। বিজ্ঞানীমহল আশা করছেন, অটোফ্যাগির সমস্যার কারনে যেহেতু ডায়াবেটিস , পারকিনসন্স এমনকি ক্যান্সার (Cancer) পর্যন্ত হয়; তাই এই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিকস, জিনবাহী রোগসহ বহু দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভবপর হতে পারে।

তথ্যসূত্র : গুগল, কালের কন্ঠ, নিউজ মেডিকেল।

১৭ জুলাই, ২০২৬· ▲ ভোট

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পুষ্টি শিক্ষায় প্রিয়া খোরানা, পিএইচডির মতে, অটোফ্যাজি হল শরীরের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলিকে পরিষ্কার করার উপায়, যাতে নতুন, স্বাস্থ্যকর কোষগুলি পুনরুত্পাদন করা যায়।

"অটো" মানে নিজেকে এবং "ফাগি" মানে খাওয়া। তাই অটোফ্যাজির আক্ষরিক অর্থ হল "স্ব-খাওয়া"।

এটিকে "স্ব-ভোজনকারী" হিসাবেও উল্লেখ করা হয়। যদিও এটি এমন কিছু মনে হতে পারে যা আপনি কখনই আপনার শরীরের সাথে ঘটতে চান না, এটি আসলে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

বোর্ড-প্রত্যয়িত কার্ডিওলজিস্ট ডক্টর লুইজা পেত্রের মতে, কারণ অটোফ্যাজি হল একটি বিবর্তনীয় স্ব-সংরক্ষণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর অকার্যকর কোষগুলিকে অপসারণ করতে পারে এবং সেলুলার মেরামত এবং পরিষ্কারের দিকে তাদের অংশগুলিকে পুনর্ব্যবহার করতে পারে।

পেট্র ব্যাখ্যা করেন যে অটোফ্যাজির উদ্দেশ্য হল ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করা এবং সর্বোত্তম মসৃণ ফাংশনে স্ব-নিয়ন্ত্রিত করা।

"এটি একই সময়ে পুনর্ব্যবহার এবং পরিষ্কার করা হয়, ঠিক আপনার শরীরে একটি রিসেট বোতামে আঘাত করার মতো। এছাড়াও, এটি আমাদের কোষে জমে থাকা বিভিন্ন স্ট্রেস এবং টক্সিনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে বেঁচে থাকা এবং অভিযোজনকে প্রচার করে, "তিনি যোগ করেন।

সম্পর্কিত প্রশ্ন

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

শরীরে মেলানিনের পরিমান কমানো যায় কিভাবে?

Abrar Islam Ador আমাদের ত্বকে মেলানোসাইট নামের একপ্রকার বিশেষ কোষ রয়েছে। এ কোষগুলো মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে। এই মেলানিনই ঠিক করে দেয় আমাদের শরীরের গায়ের রং কেমন হবে। মেলানিনের মাত্রা বা পরিমাণ নির্ভর করে জাতিসত্তা, বংশগতি, সূর্যালোকের উপস্থিতির ওপর। দেহে মেলানিন তৈরি বেড়ে গেলে ত্বকের

Shikkha Web Bot১৭ জুলাই, ২০২৬২ উত্তর

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

চ্যালা বা সেন্টিপিড এর কামড়ে কি মানুষ মারা যায়?

https://www.sciencebee.com.bd/qna/3678/%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B0?show=3679&fbclid=IwAR1TLWWlF4x4uZ4HIxdCaiGV7Ev6Almeo9y28fCFZjaxzYZdS7k_wm-LZDE#a3679

Shikkha Web Bot১৭ জুলাই, ২০২৬২ উত্তর

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া এর মধ্যে পার্থক্য কি?

হিজড়া, ট্রান্সজেন্ডার, তৃতীয় লিঙ্গ, ইন্টারসেক্স, রূপান্তরকামী এমন কত কত শব্দ। বেশিরভাগ মানুষই এ বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলেন অথচ এগুলো জানাটা খুবই প্রয়োজনীয় এবং সামান্য দুই-একটা নিবন্ধ পড়েই সব জানা সম্ভব বলে আমি মনেকরি। লিঙ্গ ব্যপারটা নিয়ে আজ একটু লেখার চেষ্টা করলাম। রেফারেন্স যোগ করলাম সাথে। বাংলা

Shikkha Web Bot১৭ জুলাই, ২০২৬২ উত্তর